চলুন, বেড়িয়ে আসি
চলুন, বেড়িয়ে আসি ।
*****************************************
কারও টানা তিনদিন ছুটি । কারও দুদিন ।
বাড়িতে, বা কোনো মাল্টিপ্লেক্সে এসির আরামে কাটানোই যায় । তবে কাউকে কাউকে আবার সুখে থাকতে ভুতে কিলোয়। কিন্তু নগরায়নের চাপে ভুতেরা উধাও । 'ভবিষ্যতের ভুত'-ও যেন 'বেদের মেয়ে জ্যোছনা'.........আসি আসি ক'রে ফাঁকি দিলো । হাতে রইলাম এই আমি । চলুন, আমিই কিলোই । দেখাই যাক না, কোথায় নিয়ে গিয়ে ফেলি ।
ট্রেনে যাওয়াই যায় । তবে তাতে খানিক অসুবিধে হয় বৈকি ! এই যেমন ট্রেনের টাইম নির্দিষ্ট, সেইমতো স্টেশনে পৌঁছাতেই হবে । তার ওপর তার রুটও বাঁধা, ইচ্ছে করলেই ড্রাইভার সাহেবকে বলতে পারবেন না, "না হে, তাড়োবার জঙ্গল নয়, চলো, বেনারস যাই !" । আর খাওয়াদাওয়া ? সেই আন্ডা মিল........ট্যালটেলে ঝোলে ভাসা দুটো সাদা সাদা ডিমসেদ্ধ !
তাই গাড়ি নিয়ে বেরোই চলুন । সকালে যতক্ষণ ইচ্ছে ঘুমোলেন, তারপরে সাজুগুজু শেষ ক'রে হাঁক পাড়লেন,
-ওরে, কে আছিস ? গাড়ি বের করতে বল । আমার ঘোরা পেয়েছে !
দেখলেন, এই জন্যই তো আপনাকে আমি এতো পছন্দ করি । বলামাত্রই কেমন বেরিয়ে পড়লেন !
কিন্তু, কথা হ'ল কোনদিকে যাবো ? কলকাতার দক্ষিণে গিয়ে লাভ নেই । আমার এক ভাই, তখন খুব ছোট, বাংলার ম্যাপ দেখে বলেছিলো, দার্জিলিঙয়ে পৃথিবী শেষ ! সেই লজিকে, ডায়মন্ড হারবার গেলেই তো দুনিয়া শেষ ! পূর্বেও তো বড়জোর ঘন্টা দুয়েক গেলেই সীমান্ত । উত্তরে যাওয়া যেতে পারে........পাহাড়, ডুয়ার্স......আরও কত কি ! কিন্তু, ভাল ক'রে ভেবে দেখুন, মধ্যমগ্রাম হয়ে বারাসত পেরোতেই অনেক সময় লেগে যাবে । ওদিকে যাওয়া ঠিক হবে ? 🤔
তাহলে, হাতে রইলো পশ্চিম । সেই পুরোনো বাংলা সিনেমায় যে পশ্চিমে লোকে হাওয়া বদল করতে যেতো । তাই চলুন, এনএইচ সিক্স, মানে বোম্বে রোড ধরি । অ, একটা সমস্যা, আমরা সবাই আলাদা আলাদা জায়গায় থাকি । তাহলে, দেখা করবো কোথায় ?
একটা কাজ করা যাক । কলকাতার দিক থেকে এসে বিদ্যাসাগর সেতুর টোল প্লাজা পেরিয়ে যেখানে কোনা এক্সপ্রেসওয়ে আর আন্দুল রোড ভাগ হচ্ছে, সেখানেই আমরা সবাই মিট করি, কেমন ?
বাহ, ক্যাজুয়াল আউটফিটে সেজে, ফেসবুকে স্টেটাস পোস্টিয়ে, পাওয়ার ব্যাঙ্ক আর ক্যামেরা বাগিয়ে, সব্বাই একে একে হাজির । তাহলে চলুন, রওয়ানা দেওয়া যাক । কোনা এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে প্রথমে যাবো সলপ মোড় । এখান থেকে বাঁ দিকে বোম্বে রোড। ডানদিকে ? ডানকুনি, কোলকাতা ইত্যাদি । আমরা বোম্বে রোডই ধরলাম, কেমন ?
আবার টোল গেট এলো । সেটা পেরিয়ে আবার এগোনো । এই যে জায়গাটা, এটার নাম ফুলেশ্বর । এখান থেকে বাঁদিকে ঢুকে পড়লেই গড়চুমুক । আমি জানতাম, আপনি আগেই এসেছিলেন । তাই তো এবারে,
দূরে কোথাও, আরো দূরে......
সুতরাং, আমরা থামলাম না । এই তো উলুবেড়িয়া পেরোলাম । আশ্চর্য মানুষ আপনি ! মাত্র ৪০ কিলোমিটার আসার পরেই বলছেন গাড়িতে তেল শেষ হওয়ার মুখে ? তার মানে আগে থেকে তেল ভরে রাখেন নি, তাই তো ? ঠিক আছে, এই উলুবেড়িয়ার আগে রাস্তার বাঁদিকের এই পাম্পটায় তেল ভরে নিন । শুনেছি এটা ভারত পেট্রোলিয়ামের নিজস্ব পাম্প । তেলের কোয়ালিটি ভাল, মাপেও নাকি গরমিল করে না ।
ওহ, আচ্ছা, ওয়াশরুম যাওয়া দরকার ? তা যান না, ওই তো ডানদিকে......ওই যে ধাবাটা দেখলেন, তার পাশেই তো ! আরে চিন্তা নেই, কেউ বকবে না । ধাবা আর পাম্পে টাই আপ আছে । সিমবায়োসিস !
ব্যাস, আর বলতে হবে না । মুখ দেখেই বুঝে গেছি ! "সেই কোন সক্কালবেলা বেরিয়েছি, ব্রেকফাস্ট করা হয় নি"......তাই তো ? তা, খেয়ে নিতেই পারেন । আজাদ হিন্দ ধাবায় খাবার বেশ ভালো । তবে ব্রেকফাস্টে এদের বেস্ট আইটেম হ'ল আলু পরোটা । আলুর স্টাফিংটা জম্পেশ ।
একটা নধর পরোটা (সাথে এক কিউব বাটারও), আচার আর টক দই নিয়ে বসে পড়ুন । আমি ততক্ষণে একটা চা খেয়ে নিই । এত সকালে আমার ক্ষিধে পায় না । আর শুনুন, পেটটা পুরো ভর্তি করবেন না । রাস্তা আভী বাকি হ্যায়, দোস্ত !
আবার চলা শুরু । আবার বোম্বে রোড । বাগনান পেরোলাম । এখান থেকে বাঁদিকে পঁচিশ কিলোমিটারটাক গেলেই যে গাদিয়াড়া, সেটা আর বললাম না । ওই যে, আপনি তো আগেই এখানে ঘুরে গেছেন ! খানিক পরেই কোলাঘাট আসবে। ওহহ.....আমরা ঘোড়াঘাটায় ফ্লাইওভার ধরে নিলাম । তা না ক'রে নিচের রাস্তা দিয়ে গিয়ে ফ্লাইওভারের নীচ দিয়ে ডানদিকে গেলে পৌঁছে যেতাম সামতাবেড় ।
কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্রের জন্মভিটে । রুপনারায়নের পাড়ে একফালি বাগান সমেত ছোট্ট একটা লাইব্রেরি । মন্দ লাগতো না, জানেন ! অবশ্য সেটা পরে হতেই পারে । কাছেই তো । যেখানে আমরা মিট করলাম, সেখান থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার । ট্রেনে এলে হাওড়া থেকে মেদিনীপুর, খড়্গপুর, পাঁশকুড়া বা মেচেদা ল্যোকালে মাত্র ঘন্ট দেড়েক ।
এই দেখুন, কথা বলতে বলতে কোলাঘাট ব্রিজ পেরিয়ে গেলাম । যাক গে, ইলিশমাছই পাওয়া যায় না তো কোলাঘাট বা রুপনারায়ণ দিয়ে হবেটা কি ! এই তো বাঁদিকে কোলাঘাট থার্মাল পাওয়ায় প্লান্ট ! আর ওই যে ফ্লাইওভার দেখছেন, আরে ওই যে, রাস্তা পেরিয়ে বাঁ দিকে ঢুকে যাচ্ছে, ওটা দিয়ে গেলে তমলুক । প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বন্দর নাকি এখানেই ছিল । দেবদ্বিজে ভক্তিশ্রদ্ধা থাকলে বর্গভীমা মন্দির দর্শন করতে পারেন । তমলুকের পরে নন্দকুমার। ওখান থেকে সোজা গেলে বন্দরশহর হলদিয়া । ডানদিকে গেলে হেঁড়িয়ার রসগোল্লা, মা নাচিন্দা মন্দিরের ভোগ অথবা কাঁথির কাজুবাদাম সন্দেশ খেতে খেতে দীঘা বা মন্দারমনি ।
এই রুটেই যাবেন ? ভেবে দেখুন। আপনি তো আবার এদিকে আলুপরোটা খেয়ে উপোস ভেঙ্গে ফেলেছেন । তাহলে আর বর্গভীমা মন্দিরে বা নাচিন্দা গিয়ে কি হবে ?
বরং আরেকটা মন্দিরে দাঁড়াই চলুন । সেখানেও উপোস ক'রে যাওয়াই ভালো । তবে তা না হলেও ক্ষতি নেই । সেই যে, হলদিয়ামুখী সেই ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে সামান্য এগিয়েই দাঁড়িয়ে পড়তে হয় । ডানদিকেই সেই মন্দির । এখানে রসনাদেবী আর উদরদেবের পূজা হয়। কোলাঘাটের "শের-এ-পঞ্জাব" ! বলেছিলাম না, এখানেও খালি পেটে আসতে হয় ।
বাইরে খাটিয়া বা টেবিলে বসে খেতে পারেন, আবার ভেতরের এসি রুমেও । নানা স্বাদের প্রসাদ ! আমি একবার সন্ধ্যেবেলায় তন্দুরীকৃত কুক্কুট প্রসাদ পেয়েছিলাম ! অহো !! রসনাদেবীর জয় হোক । ফেরার দিন সময় হিসেব ক'রে বেরোবেন যাতে এখানে সন্ধ্যে নাগাদ পৌঁছাতে পারেন । এখানে তন্দুরীটি এক্কেবারে পঞ্চনদের দেশের স্টাইলেই হয় । অন্তত হ'ত ।
আপনি গেলে যান । আমি যাবো না । এখানে আগে তরল প্রসাদ পাওয়া যেতো, মহামান্য আদালতের রায়ে তা এখন পাঁচশো মিটার দূরে চলে গেছে । এখানে এখন তাই আমার,
সুখ নেইকো মনে.........
এবার আরও পশ্চিমে । কোলাঘাট ব্রিজ থেকে পাঁচ কিলোমিটার এগোতেই চারদিকে কেমন ফুলের জলসা দেখেছেন ? ট্রেনে এলে হাউর নামে একটা স্টেশন আসে । ওখানে ফুলের চাষ নামকরা ব্যপার । আজকাল তো শীতকালে ফোটোগ্রাফির জন্য প্রচুর লোকজনও আসেন । হাইওয়ের ওপরে এই জায়গাটাকে বলে দেউলিয়া বাজার । সেই স্টার্টিং পয়েন্ট থেকে মাপা ৬৩ কিলোমিটার । এখানে দেদার ফুল বিক্রি হয়, খুচরো আর পাইকারি। দামও অনেকটা কম । যিনি ফুল কিনতে চান কিনুন । আমার খানিক কাজ আছে ।
বাহ রে ! বলেছিলাম যে, সকালে কিছু খাওয়া হয় নি ! আচ্ছা আমি ভুত ঠিকই, কিন্তু মানুষেরই ভুত তো রে বাবা ! আমারও খিধে-তেষ্টা আছে তো ! আমি ঢুকছি কমলা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে । এরা বাংলার চপ শিল্পের পথিকৃৎ বলতে পারেন । আগে এদেরই তুতো ভাই লালুর রমরমা ছিল, কিন্তু এখন সময় পাল্টেছে । কি ? দোকানের সাইনবোর্ড নেই কেন ? উন্নয়নের কোপে দোকান শুধুই জায়গা পাল্টাচ্ছে যে । হাইওয়ে চওড়া হচ্ছে কিনা.....
এখানে লুচি পাওয়া যায়। ঘুগনির সাথে। লুচির সাথে ভেজ কিছু খেলে আমি আলুর সাদা তরকারি খাই । তাই লুচি নিলাম না । শুধুই ঘুগনি । পেঁয়াজ আর কাঁচালঙ্কা কুচি দিয়ে ।
আপনারা সময় নিয়ে ফুল কিনুন। চাইলে মালা গাঁথিয়ে নিন । হাতে অঢেল সময়। আসলে আমি এবার চপ মুড়ি খাবো । সেই সকাল থেকে না খেয়ে আছি শুধু এই জন্য । এ রাস্তায় এলে আমি এমনই করি । প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি দোকানেই আলু, ডিম, ফুলকপি, টমেটো, হিংচে, পটল ইত্যাদির চপ হয় । দুই দোকানেই চপ বা মুড়ির সাথে বেসনে ডোবানো লঙ্কা ভাজা ফ্রি। দুই দোকানেই চপের আপার ক্রাস্টটা ভারি মুচমুচে হয়। এরা একটু মোটা দানার বেসন ব্যবহার করে। ব্যাটারটাও খানিক ঘন হয়। তফাৎ দুই জায়গায় । লালুর চপে আলুর পুরের থিকনেস কমলার তুলনায় অনেক কম। লালু বেশি কড়া ক'রে ভাজে। কমলা আবার কিছু চপ হালকা ব্রাউন ক'রে ভেজে রেখে দেয় । মানে যে চাইবে কড়া ভাজা খাবে, আর যে চাইবে হাল্কা ভাজা । আমি ওই হালকা ভাজাটাই পছন্দ করি । আপনি ? পেটটা পুরো ভর্তি করবেন না......বলেছিলাম না ? অবশ্য এ জিনিস খেতে শুধু পেটে নয়, মনেও জায়গা লাগে । স্ট্রীট-ফুড যাঁদের না-পসন্দ, তাঁরা এই সময় খানিকট ওটস-মিল খেয়ে নিন বরং ।
উরিব্বাস ! এই ত্তো, এবার কাঁধ উঁচু থালায় মুড়ি এলো। সাথে ছোলা সেদ্ধ, লাল লাল ভাজা বাদাম । একটা প্লেটে এলো আলুর চপ আর লঙ্কা ভাজা ।
এসব সময় আমি কথা বলি না । মুখ খুলি শুধু খেতে। কিন্তু আজ আপনারা সাথে আছেন, তাই নিয়ম খানিক শিথিল করেছি । জানেন, আমি না, খাওয়ার সময় সবগুলো ইন্দ্রিয়কে খুশি রাখার চেষ্টা করি । দেখামাত্র চোখ খুশি । এবার চপটাকে দু পিস ক'রে ভাঙলাম । গরম একটা ভাপ আর আলুর পুরের গন্ধ উঠে এল । ভাপে ত্বক খুশি হ'ল আর নাক খুশি হ'ল গন্ধে । একটা টুকরো মুখে পড়তেই জিভ আনন্দে নেচে উঠলো । তাহলে, সবাই খুশি তো ? কান বাদ গেছে ? আপনার কান গোলমাল করছে, কেটে বাদ দিন দেখি । চপের টুকরো মুখে যেতেই আমার মুখ থেকে "উঁউঁউঁমম" ক'রে একটা আওয়াজ হ'ল শুনলেন না ? কান আমার ওতেই খুশি । এই আওয়াজটার জন্যই সে ব্যাটা কান পেতে রয়......হেঁহেঁহেঁ ।
খাওয়া, ফুল কেনা, সবই শেষ । চলুন, এগোনো যাক । পাঁশকুড়া শহরকে বাইপাস করে আমরা তিরিশ কিলোমিটার মতো এগিয়েছি । এখন ডেবরায় । এখান থেকে বাঁ দিকে গেলে সবং আর পিংলা যাওয়া যায় । ওখানে জব্বর মাদুর পাওয়া যায় । জানতেন ? কাস্টমাইজড নকশা করা মাদুরও মেলে, তবে তাতে বিস্তর সময় লাগে ।
দেখলেনই তো, দেউলিয়াতে তো জল খাইনি, তেলেভাজার পরে জল খেতে নেই বলে । আচ্ছা, আপনি কেমন মানুষ মশাই ? আজ এত পরিশ্রম করার পরেও শুধু জল খাওয়াবেন ? কিপটে কোথাকার ! জানেন না, ডেবরাতে মুগের জিলিপি নামে একটা জিনিস পাওয়া যায় ? ওই রসবড়ার মতোই ধরুন । শুধু ডালটা হবে মুগডাল আর শেপ হবে মোটাসোটা জিলিপির মতো । অন্তত দুটো তো খাই !
সামনেই বাঁদিকে আসবে বুড়ামালার মন্দির । এক বাঁদরের মৃত্যুর পরে তারই স্বপ্নাদেশে এই মন্দির গড়ে উঠেছিলো, এমনই শুনেছিলাম । এই তল্লাটের অধিকাংশ মানুষ আসা যাওয়ার পথে এখানে প্রণাম ঠুকে যান । আরো পাঁচ ছয় কিলোমিটার পরে, মাদপুর আর জকপুর স্টেশনের মাঝামাঝি জায়গায় একটা গ্রামীন মন্দির আছে । মনসা মন্দির । এই মন্দিরে কোনও পূজারী নেই । দুধ, কলা, ধুপকাঠি নিয়ে যে কেউ গিয়ে নিজের পুজো দিয়ে আসতে পারেন । দারুণ না ? এই মন্দিরে মানুষ মূলতঃ শনি-মঙ্গলবারেই পুজো দিতে আসেন । আজ শুক্রবার । তাই মন্দিরে না গিয়ে আর একটু এগোই চলুন ।
হুমমম..........এইবার আসল সমস্যা । এতক্ষণ রাস্তায় যত মোড় এসেছে, সব তিনমাথার মোড় । এটা আবার চৌরাস্তার মোড় । সুতরাং অপশন অনেক বেশি । দাঁড়ান,খানিক ভেবে বলি । আসলে পেটে এত খাবারদাবার, যে ভাবতেও ইচ্ছে করছে না । তবু...........
এটা হ'ল চৌরঙ্গী মোড় । যেখান থেকে একসাথে শুরু করেছিলাম, সেখান থেকে দেখতে দেখতে (আর খেতে খেতে) পাক্কা ১২৮ কিলোমিটার চলে এসেছি ।
এখান থেকে ডানদিকে খানিক গেলেই মেদিনীপুর শহর। ওখানকার মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলে পড়েছিলেন ক্ষুদিরাম ক্ষুদিরাম বসু, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ইত্যাদি মহান মানুষেরা ।ঋষি রাজনারায়ণ বসু ওখনে হেডমাস্টার ছিলেন । সেই ১৮৩৪ সালের স্কুল । আপনি ঠিক ধরেছেন, আরও এক মহান পুরুষ ওই স্কুলের প্রাক্তনী । হেঁহেঁহেঁ...........নিজের মুখে বলি না, তাই অনেকে জানতি পারেন না !
সে যাক গে, আপনি যদিও বাইপাস ধরবেন, হাতে সময় থাকলে একবার পাথরা যাবেন। ওখানে বেশ কিছু প্রাচীণ হিন্দুমন্দির একার দায়িত্বে সংরক্ষণ করছিলেন একজন মুসলিম ভদ্রলোক। তাঁর নাম ইয়াসিন পাঠান । এখন উনি খানিক পরিচিতি পেয়েছেন, কিন্তু একসময় একা কুম্ভ হয়েই কাজ করেছেন । তারপর বেরিয়ে পড়তে পারেন আরাবাড়ির জঙ্গল, নাড়াজোল রাজবাড়ি, কর্ণগড়, গনগনি, সর্বমঙ্গলা মন্দির, বিষ্ণুপুর, মায় পুরুলিয়া হয়ে অযোধ্যা পাহাড় ।
চৌরঙ্গী থেকে সোজা গেলে প্রথমেই গুপ্তমনি মন্দির, লোধাশুলির জঙ্গল। তারপর কনকদুর্গা মন্দির, ডুলুং নদী, চিল্কিগড়, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ী । দূরে যেতে চাইলে চিচিড়া বর্ডার পার হয়ে জামশোলা হয়ে বহেরাগোড়া/বাংরিপোসি, হাতিবাড়ি । আরও দূরে যেতে চাইলে জামশেদপুর বা ঘাটশিলাও যেতে পারেন ।
আর বাঁদিকে দীঘা, মন্দারমনি, তাজপুর, পুরী। মানে আপনি দক্ষিণ ভারতে ঢুকতে চললেন ।
আমার দায়িত্ব শেষ । এবার আপনি সিদ্ধান্ত নিন ।
কারও কথায় না ভুলে নিজের ভোট নিজে দিন । যাঁরা যেদিকেই গেলেন, ভালো ক'রে বেড়িয়ে আসুন ।
আচ্ছা, যাঁরা দীঘার দিকে চললেন, আমাকে একটা ছোট্ট লিফট দেবেন, প্লিজ ? এই কিলোমিটার দেড়েক গিয়েই আমি নেমে পড়বো ।
নতুন বছরে বাড়ির বড়দের প্রণাম করতে খড়্গপুর যাচ্ছি আর কি !
Comments
Post a Comment