Posts

Showing posts from October, 2019

বিলম্বিত ডায়েরি

শুরুর কথা  ***************************** -আমরা আটজন, আর বার্থ মাত্র পাঁচটা !  অকাল বসন্তের বৃষ্টির চেয়েও ঘ্যানঘ্যানে সংশয়ের বৃষ্টি আমার অর্ধাঙ্গিনীর চোখেমুখে ।  হয়েছে কি, মাত্র দিন দশেক আগে জেনেছি যে ফেব্রুয়ার ২৬ তারিখ ছেলের পরীক্ষা শেষ আর তার পরে মার্চের তিন তারিখ অবধি স্কুল আর ট্যুইশনেরও ছুটি । ক্লাস ইলেভেনের পড়ার চাপে ওর দিন কয়েকের ছুটি দরকার, কোনো এক শনিবারের সন্ধ্যেবেলায় মেনেও নিয়েছিলাম । এমনিতেই তো সবাই জানে, বাড়িতে বাচ্চারা বসের মতো ব্যবহার করে আর অফিসে বসেরা বাচ্চার মতো। তার ওপর শনিবারের 'দুর্বল মুহুর্তে' নিজের মুখে স্বীকার গেছি সেকথা । আমাকে বাঁচায় সাধ্যি কার ! তার তিন-চার দিন পরে অফিসের সেই বাচ্চাটি, থুড়ি, বস আর কি, তাঁর সামনে দু হাত কচলে এক্কেবারে বিনয়ের অবতার হয়ে তিনদিন ছুটির কথা তুললাম। সঙ্গে শনি-রবি মিশিয়ে টানা পাঁচদিন হয়ে যায় !  'এ দেশে কেউ আর পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ চাইছে না', এমন খবরেও হয়তো তিনি এত অবাক হতেন না, যতটা আমার কথা শুনে ঘাবড়ে গেলেন ! বললেন, -ইয়েস, ইউ ডেফিনিটলি নিড আ ব্রেক। মেক আ প্লান ফর ভেকেশন ইন এপ্রিল ।  -স্যার, ইউ নো...... -ফর দ্য...

চলুন, বেড়িয়ে আসি

চলুন, বেড়িয়ে আসি ।  ***************************************** কারও টানা তিনদিন ছুটি । কারও দুদিন ।  বাড়িতে, বা কোনো মাল্টিপ্লেক্সে এসির আরামে কাটানোই যায় । তবে কাউকে কাউকে আবার সুখে থাকতে ভুতে কিলোয়। কিন্তু নগরায়নের চাপে ভুতেরা উধাও । 'ভবিষ্যতের ভুত'-ও যেন 'বেদের মেয়ে জ্যোছনা'.........আসি আসি ক'রে ফাঁকি দিলো । হাতে রইলাম এই আমি । চলুন, আমিই কিলোই । দেখাই যাক না, কোথায় নিয়ে গিয়ে ফেলি ।  ট্রেনে যাওয়াই যায় । তবে তাতে খানিক অসুবিধে হয় বৈকি ! এই যেমন ট্রেনের টাইম নির্দিষ্ট, সেইমতো স্টেশনে পৌঁছাতেই হবে । তার ওপর তার রুটও বাঁধা, ইচ্ছে করলেই ড্রাইভার সাহেবকে বলতে পারবেন না, "না হে, তাড়োবার জঙ্গল নয়, চলো, বেনারস যাই !" । আর খাওয়াদাওয়া ? সেই আন্ডা মিল........ট্যালটেলে ঝোলে ভাসা দুটো সাদা সাদা ডিমসেদ্ধ !  তাই গাড়ি নিয়ে বেরোই চলুন । সকালে যতক্ষণ ইচ্ছে ঘুমোলেন, তারপরে সাজুগুজু শেষ ক'রে হাঁক পাড়লেন,  -ওরে, কে আছিস ? গাড়ি বের করতে বল । আমার ঘোরা পেয়েছে !  দেখলেন, এই জন্যই তো আপনাকে আমি এতো পছন্দ করি । বলামাত্রই কেমন বেরিয়ে পড়লেন !  কিন্তু, কথা হ'ল কোনদিকে যাবো ? ...

রাজাই শুধু নেই

২০০৯-এর অক্টোবরের শেষ থেকে ২০১০-এর মার্চের গোড়া অবধি প্রায় চার মাস রোজ অফিস করেছিলাম । মাঝে দুটো দিন বাদ দিলে, রোজ ! শনি-রোববার, বড়দিন, নিয়্যু ইয়ার, রোজ অফিস গেছিলাম। এমনকি, এক শনিবার দুপুরে পিকনিক সেরে বিকেলে অফিস গেছিলাম । একটা জরুরী আর বড়সড় কাজ ছিলো ।  মাঝে একদিন ছুটি নিয়েছিলাম, সেদিন পুত্রের জন্মদিন ছিলো । আর একটা দিন ছিলো ২০শে ফেব্রুয়ারি । শনিবার । বসকে আগাম বলতেই তিনি হেসে বললেন, -নিশ্চয়ই খুব ইমোশন জড়ানো ব্যাপার হবে ?  ঘটনাটা তার আগে । ওই পিকনিকের দিনেই । ভুবনেশ্বরে আমাদের বাঙালিদের একটা অর্গানাইজেশন ছিলো । প্রগতি । প্রগতির পিকনিকে আমি, অপু আর জয়ন্ত গানবাজনার তুমুল আসর বসিয়েছি । অপু আর জয়ন্ত ফাটিয়ে গাইছে, গামলা বাজাচ্ছি আমি ।  আর তাতে ঘুরে ফিরে আসছে মান্না দে'র গান । মারিকদা, আমাদের সেক্রেটারি এসে বললেন, -সবাই দাদার খুব ভক্ত মনে হচ্ছে ! তাহলে এবার অ্যানুয়াল ফাংশানে দাদাকে আনি ?  অন্য কেউ হ'লে ভাবতাম ঠাট্টা করছে । কিন্তু জানতাম, মারিকদা ইম্প্রেসারিও । এমন নামকরা শিল্পীদের নিয়ে উনি অনুষ্ঠান করান । সুতরাং, আমরা চেঁচিয়ে বললাম,  -হোক ! হোক ! হোক !  দিন পনে...

আমি পাই না ছুঁতে তোমায়

অনেকদিন আগের কথা । ২০০২-এর ২রা ডিসেম্বর । ঢাকুরিয়ার আমরি হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছি । মোবাইলে পিঁক ক'রে আওয়াজ হ'ল । এসএমএস । দেখলাম অভিজিতের মেসেজ । হুড়মুড়িয়ে মেসেজ খুললাম । একটা শব্দের ছোট্ট একটা মেসেজ । "Girl." চায়ের ভাঁড় ফেলে দুদ্দাড় ক'রে দৌড়োলাম অভিজিতের সাথে দেখা করতে ।  সেদিন আমরিতে আমরা অনেকে গেছিলাম। বন্দনার ডেলিভারি । মাঝে চা-সিগারেটের জন্য বাইরে গেছিলাম । তার মাঝেই খবরটা পেয়ে বন্দনার হাজব্যান্ড অভিজিৎ আমাদের জানিয়েছে, ওদের মেয়ে হয়েছে । আমার ছেলের বয়স তখন দু' দিন । তাই ওদের খুশির সাথে বেশ রিলেট করতে পারছিলাম।  তারপরে সেই মেয়ের, মানে মিলির, যখন তিন-চার বছর বয়স, তখনও মাঝে মাঝে ওকে দেখার পরে সেই মেসেজটা দেখতাম । গার্ল ! একটা মেসেজে শুধু তো মেয়ে হওয়ার খবর নয়, অভিজিতের প্রথম বাবা হওয়ার খুশিটাও এসেছিল । আমার খুব প্রিয় মেসেজ । তাই ওই মেসেজটা আমার সিমকার্ডে সেভ করা ছিলো । তারপর একদিন সিমে কি একটা গোলমাল হ'তে ওটা পাল্টাতে হ'ল । যে মেসেজটা হারিয়ে ফেলার জন্য আমার মন খারাপ হ'ল সবচেয়ে বেশি, সেটা ছিল ওই মেসেজটাই । গার্ল !  কেজো মেসেজ বা জন্মদিন,...

খবরা-খাবার

বেড়াতে গিয়ে অনেকের কেমন মজার মজার ঘটনা ঘটে ! তাঁরা সুন্দর ক'রে গল্পও বলেন । আমার কাছে তেমন গল্প নেই । আমি বরং ছোট ছোট তিনটে খাওয়ার গল্প করি ।  ১) তিনটে পরিবার সিমলা-কুলু-মানালি গেছিলাম । দিল্লি থেকে একটা টেম্পো ট্র‍্যাভেলার ভাড়া ক'রে । সিমলা থেকে মানালি যাওয়ার পথে সবার কৌতুহল হল, ট্রাউট মাছ ছাড়া আর কিছু পাওয়া যাবে কিনা ! ড্রাইভার মন্নুকে জিজ্ঞেস করলাম,  -মানালি মেঁ ফিশ মিলেগা ?  -হাঁ সাব, কালাবাউস হ্যায় না ?  আমরা ভুবনেশ্বর থেকে গেছি । ওখানে কালবৌশ মাছকে কালাবাউস বলে । ভারতের মহান বৈচিত্রের মধ্যেও এমন ভাষাগত মিল দেখে আমরা মুগ্ধ । আর কালবৌশ মাছ ভাজা দিয়ে বিয়ার খাওয়া যাবে ভেবে আমি তো তখন সপ্তম স্বর্গে !  মানালি যখন পৌঁছোলাম তখন বেলা তিনটে । কালবৌশ খাওয়া হবে, তাই বড়রা লাঞ্চ করে নি । ড্রাইভার একটি বড়সড় হোটেলে গাড়ি ঢোকালো । সেখানে দামী দামী রেস্তোরাঁ আর ঝাঁ চকচকে দোকানের সারি । এখানে মাছের হেব্বি দাম হবে, বোঝা গেল । তবুও, কালবৌশ বলে কথা ! মন্নুকে বললাম,  -কালাবাউশ কাহাঁ মিলেগা ?  -ইয়ে হী তো কালাবাউশ হ্যায় ।  ওর দেখানো আঙুল ফলো ক'রে দেখলাম, বিল্ডিংএর ওপ...